• শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ভারতের মাওবাদী গণযুদ্ধ দমনে সামরিক অভিযান

“অপারেশন কাঘার”-এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন

ভারতের মাওবাদী গণযুদ্ধ দমনে সামরিক অভিযান

“অপারেশন কাঘার”-এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

ভারতের শ্রমিক-কৃষক-আদিবাসী সহ সর্বস্তরের নিপীড়িত জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও শোষণহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সিপিআই (মাওবাদী) পার্টির নেতৃত্বে জনগণের গণযুদ্ধ ও লড়াই-সংগ্রাম চলছে। ভারতের শাসকশ্রেণি মাওবাদীদের নেতৃত্বে জনগণের গণযুদ্ধকে নিশ্চিহ্ন করতে নানান সময়ে নানান প্রজেক্ট নিয়ে হাজির হয়েছে। তার মধ্যে সালুয়া জুডুম, অপারেশন গ্রিনহান্ট ছিল অন্যতম। সেসব অভিযান মাওবাদী বিপ্লবী লড়াই ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়। একারণে শেষযুদ্ধ নামে এখন এই নতুন সামরিক অভিযান তারা শুরু করেছে।

১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে মাদে বসবাসকারী ৩৫ হাজার জনগণের মধ্যে ৬টি বেস ক্যাম্প স্থাপন করে একটানা ১০ হাজার কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী এবং আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। এই অপারেশন কাঘার হলো হিন্দুত্ববাদী মোদির ফ্যাসিস্ট শাসনের চূড়ান্ত পরিণতি। 

ভারতের শাসকশ্রেণির সকল সরকারো বরাবরই মাওবাদীদের তাদের জন্য হুমকি মনে করে আসছে। তাই একের পর এক ধ্বংসাত্মক দীর্ঘস্থায়ী অপারেশন করে আসছে। ২০০৫-৯ এ “সেন্দ্রা এবং সালওয়া জুডুম” শুরু করে ২০০০’র বেশি আদিবাসীকে হত্যা করে। ২০০৯-১৭ সালে “অপারেশন গ্রিনহান্ট” নামে আরেকটি ফ্যাসিবাদী সামরিক অভিযান চালিয়ে হত্যা করেছে মাওবাদীসহ অনেক সাধারণ জনগণকে। ২০১৭ সালে অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার করে আরও ৫ বছরের জন্য “অপারেশন সমাধান” নামে কঠোর সামরিক অভিযান চালায়। ’২০-’২১ সালে পুরো বিশ্ববাসী যখন করোনা মহামারীর সাথে যুদ্ধ করছে ঠিক তখন সারা ভারতের মাওবাদীরা এবং আদিবাসীসহ সাধারণ জনগণ করোনার পাশাপাশি ভারত সরকারের হিংস্র সামরিক অভিযান “অপারেশন প্রহর”-এরও মোকাবিলা করেছেন। 

হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্ট মোদি সরকার ২০২৭ সালের মধ্যে “নতুন ভারত” প্রতিষ্ঠার একটি ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে যার লক্ষ্য হচ্ছে– মাওবাদী মুক্ত ভারত প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য থেকেই বিমান থেকে বোমা হামলা, ড্রোন হামলা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। এক বর্বর সামরিক অভিযান চালিয়ে গণহত্যা করে চলেছে। যারাই হিন্দুত্ববাদী শাসকদের গণবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তাদেরকে “কলমধারী”(Pen-Yielding) মাওবাদী হিসেবে তকমা দিয়ে দমন করা হচ্ছে। 

ভারতের মাওবাদীরা ফ্যাসিস্ট সরকারের গণবিরোধী চরিত্রকে উন্মোচন এবং সাধারণ জনগণের জল-জমি-সম্পদ-জানমাল-মর্যাদা রক্ষা এবং  রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লড়াই করে আসছেন। যুগে যুগে জনগণের সংগ্রামের ইতিহাসই প্রমাণ দেয় সামরিক দমন-পীড়নের মাধ্যমে প্রগতিশীল-গণতান্ত্রিক-বিপ্লবী আন্দোলনকে ধ্বংস করা যায় না। 

মাওবাদী নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী সংগ্রাম/গণযুদ্ধ ধ্বংস করার লক্ষ্যে পরিচালিত “অপারেশন কাঘার” অবিলম্বে বন্ধের দাবিতে ভারতসহ দেশ-বিদেশের সকল প্রগতিশীল-গণতান্ত্রিক-বিপ্লবী সংগঠন, বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকার কর্মী, গণতন্ত্রী লেখক-কবি, আইনজীবী, সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের আহ্বান জানাচ্ছি।

ভারতের মাওবাদী গণযুদ্ধ দমনে সামরিক অভিযান

“অপারেশন কাঘার”-এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

ভারতের শ্রমিক-কৃষক-আদিবাসী সহ সর্বস্তরের নিপীড়িত জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও শোষণহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সিপিআই (মাওবাদী) পার্টির নেতৃত্বে জনগণের গণযুদ্ধ ও লড়াই-সংগ্রাম চলছে। ভারতের শাসকশ্রেণি মাওবাদীদের নেতৃত্বে জনগণের গণযুদ্ধকে নিশ্চিহ্ন করতে নানান সময়ে নানান প্রজেক্ট নিয়ে হাজির হয়েছে। তার মধ্যে সালুয়া জুডুম, অপারেশন গ্রিনহান্ট ছিল অন্যতম। সেসব অভিযান মাওবাদী বিপ্লবী লড়াই ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়। একারণে শেষযুদ্ধ নামে এখন এই নতুন সামরিক অভিযান তারা শুরু করেছে।

১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে মাদে বসবাসকারী ৩৫ হাজার জনগণের মধ্যে ৬টি বেস ক্যাম্প স্থাপন করে একটানা ১০ হাজার কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী এবং আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। এই অপারেশন কাঘার হলো হিন্দুত্ববাদী মোদির ফ্যাসিস্ট শাসনের চূড়ান্ত পরিণতি। 

ভারতের শাসকশ্রেণির সকল সরকারো বরাবরই মাওবাদীদের তাদের জন্য হুমকি মনে করে আসছে। তাই একের পর এক ধ্বংসাত্মক দীর্ঘস্থায়ী অপারেশন করে আসছে। ২০০৫-৯ এ “সেন্দ্রা এবং সালওয়া জুডুম” শুরু করে ২০০০’র বেশি আদিবাসীকে হত্যা করে। ২০০৯-১৭ সালে “অপারেশন গ্রিনহান্ট” নামে আরেকটি ফ্যাসিবাদী সামরিক অভিযান চালিয়ে হত্যা করেছে মাওবাদীসহ অনেক সাধারণ জনগণকে। ২০১৭ সালে অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার করে আরও ৫ বছরের জন্য “অপারেশন সমাধান” নামে কঠোর সামরিক অভিযান চালায়। ’২০-’২১ সালে পুরো বিশ্ববাসী যখন করোনা মহামারীর সাথে যুদ্ধ করছে ঠিক তখন সারা ভারতের মাওবাদীরা এবং আদিবাসীসহ সাধারণ জনগণ করোনার পাশাপাশি ভারত সরকারের হিংস্র সামরিক অভিযান “অপারেশন প্রহর”-এরও মোকাবিলা করেছেন। 

হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্ট মোদি সরকার ২০২৭ সালের মধ্যে “নতুন ভারত” প্রতিষ্ঠার একটি ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে যার লক্ষ্য হচ্ছে– মাওবাদী মুক্ত ভারত প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য থেকেই বিমান থেকে বোমা হামলা, ড্রোন হামলা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। এক বর্বর সামরিক অভিযান চালিয়ে গণহত্যা করে চলেছে। যারাই হিন্দুত্ববাদী শাসকদের গণবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তাদেরকে “কলমধারী”(Pen-Yielding) মাওবাদী হিসেবে তকমা দিয়ে দমন করা হচ্ছে। 

ভারতের মাওবাদীরা ফ্যাসিস্ট সরকারের গণবিরোধী চরিত্রকে উন্মোচন এবং সাধারণ জনগণের জল-জমি-সম্পদ-জানমাল-মর্যাদা রক্ষা এবং  রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লড়াই করে আসছেন। যুগে যুগে জনগণের সংগ্রামের ইতিহাসই প্রমাণ দেয় সামরিক দমন-পীড়নের মাধ্যমে প্রগতিশীল-গণতান্ত্রিক-বিপ্লবী আন্দোলনকে ধ্বংস করা যায় না। 

মাওবাদী নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী সংগ্রাম/গণযুদ্ধ ধ্বংস করার লক্ষ্যে পরিচালিত “অপারেশন কাঘার” অবিলম্বে বন্ধের দাবিতে ভারতসহ দেশ-বিদেশের সকল প্রগতিশীল-গণতান্ত্রিক-বিপ্লবী সংগঠন, বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকার কর্মী, গণতন্ত্রী লেখক-কবি, আইনজীবী, সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের আহ্বান জানাচ্ছি।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র